April 9, 2026, 4:28 pm

সংবাদ শিরোনাম
রংপুরে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ আত্মীয়ের বাসা থেকে সাড়ে চার কোটির ছায়া: নথি ঠিক, উৎস অদৃশ্য নিজের অপরাধ আড়াল করতে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ মেইন রাস্তার ধুলো নয়, নীরব বিষ: রংপুরে তামাক ক্রাসিংয়ের অবৈধ বিস্তার রংপুরে হামের ছায়া: সংখ্যা নয়, গল্পগুলোই বলছে আসল কথা দিনাজপুরে আশ্রম ও এতিমখানায় ৩ কোটি ৬২ লক্ষ ৮৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ হাম-আতঙ্কের ভেতর পাঁচ শিশু, রমেকে নীরব লড়াই রংপুরে ”আলোকিতো’র প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী পালিত সাড়ে চার কোটির ছায়া: শ্বশুর সামনে, কাস্টমস্ জামাতার সংযোগ গংগাচড়ায় আপোষের নামে বোনকে ডেকে মারপিট, আসামীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

ব্যাংকে আমানতের সুদহার বাড়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটার টান

ব্যাংকে আমানতের সুদহার বাড়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটার টান

mostbet

ডিটেকটিভ নিউজ ডেস্ক

বেশি লাভ পাওয়ায় বিগত সময়ে সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী ছিল সাধারণ মানুষ। কিন্তু বর্তমানে ওই অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে। ব্যাংকগুলোতে আমানতের সুদহার বাড়ায় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হ্রাস পেয়েছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ভাল না হওয়ায় ব্যাংকগুলোতে তারল্যের পাহাড় জমেছিল। আর উদ্বৃত্ত তারল্যের চাপে ব্যাংকগুলো নতুন করে আমানত সংগ্রহ করা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিল। আমানতকারীদের নিরুৎসাহিত করতে ব্যাংকগুলো আমানতের সুদের হার ক্রমেই কমাচ্ছিল। ওই পরিস্থিতিতে সঞ্চয়পত্র কিনলে ব্যাংকের চেয়ে বেশি সুদ পাওয়া যেত। এখন আবার ব্যাংকে আমানতের সুদের হার বাড়তে শুরু করায় সাধারণ মানুষও আবার সঞ্চয়পত্র থেকে ব্যাংকমুখি হচ্ছে। আর তারল্যে টান পড়ায় ব্যাংকও আবার আমানতকারীদের কাছে যাওয়া শুরু করেছে। সঞ্চয়পত্র ব্যুরো ও ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সদ্যবিদায়ী বছরের নভেম্বর মাসে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। যা ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের চেয়ে ৫৪৪ কোটি টাকা কম। মাত্র কয়েকমাস আগেও সঞ্চয়পত্র বিক্রির চিত্র ছিল ভিন্ন। তখন সঞ্চয়পত্র বিক্রির প্রবৃদ্ধি ছিল অনেক বেশি।  সঞ্চয়পত্র ক্রেতাদের লাইনও ক্রমেই লম্বা হচ্ছিল। বর্তমানে সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে ভাটার টান। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন ব্যাংকের আমানতের সুদহার বৃদ্ধি এবং সরকারের কড়াকড়ি কারণে সঞ্চয়পত্র বিক্রি কমছে। আর সঞ্চয়পত্র বিক্রির এ অবস্থা সরকারের উপর সুদের চাপ কমবে। একইভাবে তা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্যেও তা ইতিবাচক।

সূত্র মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে সম্প্রতি ব্যাংকিং খাতে ঋণ বিতরণ ব্যাপক হারে বাড়ছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে নগদ টাকার টান পড়ছে। সেজন্য চাহিদা অনুযায়ী ঋণ বিতরণ করতে আমানত সংগ্রহে ব্যাংকগুলো মনোযোগী হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাংক আমানতের সুদহার বাড়িয়েছে। শিগগিরই  আমানতের সুদহার আরো বাড়তে পারে। গতবছরের নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৯ দশমিক ০৬ শতাংশ। যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩ শতাংশ বেশি। আর সুদহার কম থাকায় আমানত বেড়েছে মাত্র ১০ শতাংশ। কয়েকমাস আগে যেখানে অতিরিক্ত তারল্য ছিল এক  লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। এখন তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৯০ হাজার কোটি টাকায়। ক্রমে এ তারল্য কমে যাচ্ছে। চলতি বছরের শুরুর দিন থেকেই কয়েকটি ব্যাংক আমানতে সুদহার বাড়িয়েছে। রূপালী ব্যাংক তাদের মেয়াদি আমানত প্রকল্পগুলোতে সুদহার দশমিক ৫০ থেকে এক শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়িয়েছে। ব্যাংকটি ৩ মাস মেয়াদি আমানতের সুদহার সাড়ে ৪ থেকে বাড়িয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ করেছে। ৬ মাস মেয়াদি আমানতে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সাড়ে ৫ শতাংশ করেছে। আর এক বছর মেয়াদি আমানতে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৬ শতাংশ, স্বল্পমেয়াদি আমানতে ৩ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ এবং সঞ্চয়ী আমানতের সুদহার সাড়ে ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। একইভাবে অগ্রণী ব্যাংক দশমিক ৫০ শতাংশ সুদ বাড়িয়ে ৩ মাস মেয়াদি আমানতে ৫ শতাংশ, ৬ মাস মেয়াদি ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং এক বছর বা এর বেশি মেয়াদি আমানতে সাড়ে ৫ শতাংশ সুদ নির্ধারণ করেছে। বেসরকারি খাতের ঢাকা ব্যাংক সুদহার বাড়িয়ে সাড়ে ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গতবছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসেই আমানতের বিপরীতে সুদহার ক্রমেই কমেছে। গতবছরের জানুয়ারিতে আমানতের বিপরীতে গড় সুদহার ছিল ৫ দশমিক ১৩ শতাংশ। সর্বশেষ হিসাবে গতবছরের নভেম্বর পর্যন্ত গড় সুদহার কমে দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৯০ শতাংশ। ব্যাংকগুলো যেভাবে আমানত সংগ্রহে নামছে এবং তা করতে যেয়ে যেভাবে সুদহার বাড়াচ্ছে, তাতে শিগগিরই আমানতের সুদহার বাড়বে।

সূত্র জানায়, চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ২১ হাজার ১৭২ কোটি টাকার। তার মধ্যে গত নভেম্বর মাসে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি করে সরকার নিট ঋণ নিয়েছে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘাটতি মেটাতে ওই খাত থেকে সরকারের ঋণ নেয়ার কথা ৩০ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। ২০১৬ সালের নভেম্বরে নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ৪ হাজার ৪০২ কোটি টাকার। বিদায়ী বছরের নভেম্বর মাসে ৩ হাজার ৮৫৮ কোটি টাকার নিট সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসের চেয়ে ৫৪৪ কোটি টাকা কম। অবশ্য চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে অর্থাৎ জুলাই-নভেম্বর সময়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে সঞ্চয়পত্র বিক্রি বেড়েছে ৮৫৩ কোটি টাকা। গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রথম ৫ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছিল ২০ হাজার ৩১৯ কোটি টাকা। আর গত দুই অর্থবছরে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থার পরিবর্তে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ বেশি নিয়েছে। ব্যাংকের চেয়ে সঞ্চয়পত্রে সুদহার বেশি। ফলে যখন গ্রাহকদেরকে সঞ্চয়পত্রের অর্থসুদসহ ফেরত দিতে হবে, তখন সরকারকে বেশি টাকা গুনতে হবে। ওই কারণে সরকারের ঋণের বোঝা বেড়ে যাচ্ছিল। সেজন্য অর্থনীতিবীদরা সরকারকে সঞ্চয়পত্রের লাগাম টেনে ধরতে পরামর্শ দিচ্ছিলেন। পরে সরকার সিদ্ধান্ত নেয় সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমানোর। একইসঙ্গে সঞ্চয়পত্র কেনার অর্থের উৎস জানানো, সীমা নির্ধারণ করে দেয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। আর এরকম নানান শর্ত পালনের বিষয়ে কড়কড়ি করায় সঞ্চয়পত্রের বিক্রি কমেছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রতিদিনের সঞ্চয়পত্র বিক্রির পরিমাণ থেকে আগের বিক্রি করা সঞ্চয়পত্রের সুদ-আসল পরিশোধের পর যা অবশিষ্ট থাকে, সেটাকেই নিট বিক্রি বলে হিসাব করা হয়। বিনিয়োগের অর্থ সরকারের কোষাগারে জমা থাকে এবং সরকার তা রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজে লাগায়। বিনিময়ে সঞ্চয়পত্রের গ্রাহকদের প্রতি মাসে মুনাফা দিতে হয়। ওই কারণে অর্থনীতির পরিভাষায় সঞ্চয়পত্রের নিট বিক্রিকে সরকারের ঋণ বা ধার হিসেবে গণ্য করা হয়। সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণ সরকারের সুদ ব্যয় বাড়াচ্ছে। বর্তমানে ট্রেজারি বিলের বিপরীতে ২ দশমিক ৯০ শতাংশ সুদে ৯১ দিন মেয়াদি ঋণ পাচ্ছে সরকার। ৫ বছর মেয়াদি ঋণ নিতে পারছে ৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ সুদে। তবে সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে ব্যাপক অর্থ আসায় কম সুদের এ সুফল নিতে পারছে না সরকার। অন্যদিকে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকার যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছে তার চেয়ে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি পরিশোধ করেছে।

এদিকে সঞ্চয়পত্রগুলোর মধ্যে পাঁচ বছরমেয়াদি পরিবার সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ সুদ পাওয়া যায়। পাঁচ বছরমেয়াদি পেনশন সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ। পাঁচ বছরমেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। তিন বছরমেয়াদি মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রের সুদের হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। তিন বছরমেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয়পত্রের সুদের হার বর্তমানে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ।

অন্যদিকে দেশি-বিদেশি উভয় উত্স থেকেই ঋণ নিয়ে বাজেট ঘাটতি মেটায় সরকার। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে আগে বেশি ঋণ আসতো ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে। সাম্প্রতিককালে বেশি ঋণ আসছে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে। ব্যাংকবহির্ভূত উৎসের মধ্যে রয়েছে সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য কিছু বন্ড।

Share Button

     এ জাতীয় আরো খবর